শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

১১ বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসেন না সুমন, কাজ করান আরেকজনকে দিয়ে

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৫, ০৩:০১ পিএম
ভিটিপাড়া কাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইনসেটে অভিযুক্ত। ছবি : কালবেলা
ভিটিপাড়া কাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইনসেটে অভিযুক্ত। ছবি : কালবেলা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক কাম নৈশ প্রহরী (৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী) সুমন মিয়া গত ১১ বছর ধরে বিদ্যালয়ে যান না। কিন্তু নিয়মিত বেতনভাতা উত্তোলন করছেন। সুমনের বদলে স্বপ্না সাহা নামের এক নারী বিদ্যালয়ে কাজ করেন। ফলে বেতনের একটা অংশ স্বপ্নাকে দিয়ে সরকারি বেতন-ভাতার বাদবাকি অর্থ আত্মসাৎ করছেন তিনি।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ভিটিপাড়া কাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, উপজেলার কাশতলা ভিটিপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে সুমন মিয়া আওয়ামী সরকারের আমলে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বিশেষ সুবিধায় কাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক কাম নৈশ প্রহরীর চাকরি নেন। তারপর থেকেই তিনি ব্যক্তিগত ব্যবসা বাণিজ্য আর ব্যস্ততার কারণে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হন না। তাই সহায়ক কিছু কাজকর্মে সহায়তা করার জন্য স্বপ্না সাহা নামে এক নারীকে ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। বিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেতনের একটা অংশ স্বপ্নার হাতে তুলে দেন।

সুমন প্রতি মাসে ১৬ হাজার ৬৭৩ টাকা হারে বেতন পান। এতে করে তিনি গত ১১ বছরে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন না করেই অন্তত ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থের সামান্য একটা অংশ তার বদলে নামেমাত্র দায়িত্ব পালন করা স্বপ্না সাহার হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি কাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সুমনের পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করছেন স্বপ্না সাহা নামের এক নারী। সে সময়ে যথারীতি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত সুমন মিয়া।

স্বপ্না সাহাকে কোন পদে চাকরি করছেন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি কোনো পদে চাকরি করি না। সুমন দাদা আমাকে এই চাকরিটা দিয়েছেন। প্রতি মাসে সুমন দাদাই আমাকে বেতন দেন। আমার স্বামী মারা যাওয়ায় দাদা আমাকে এই কাজটা দিয়েছেন। মাস শেষে দাদাই আমাকে বেতন দেন এবং বিদ্যালয় থেকে আমাকে কোনো অর্থ দেওয়া হয় না।

ভিটিপাড়া কাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সে সময়ে উপস্থিত সহকারী শিক্ষক শাহনাজ আকতার, সুলতানা বিলকিস, ইমরান মাহমুদ, চায়না রানী সাহা প্রমুখ। সুমন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সবাই এক বাক্যে বলেন, সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না, তার বদলে স্বপ্না সাহা নামের এক নারী কাজ করেন। খুব বেশি প্রয়োজন হলে তাকে মোবাইল ফোনে কল করে বিদ্যালয়ে ডেকে আনতে হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহনাজ আকতার বলেন, সুমন মাসে দুই এক দিন বিদ্যালয়ে আসে। কোনো জরুরি কাজে দরকার হলে তার মোবাইল ফোনে কল করে বলতে হয়, আজকে এই কাজ আছে একটু আসলে ভালো হয়। তখন সে স্বল্প সময়ের জন্যে আসে। সুমনের বদলে এক নারী কাজ করেন। তাকে বিদ্যালয় থেকে আমরা কোনো টাকা দিই না। সুমন সম্ভবত তাকে টাকা দেয়, টাকা ছাড়া তো আর কেউ এমনি এমনি কাজ করে দেবে না।

সহকারী শিক্ষক ইমরান মাহমুদ বলেন, সাত দিন, পনের দিন পর পর বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যায় সুমন। চাকরি ছাড়াও তার নিজস্ব কিছু ব্যবসা বাণিজ্য আছে, সেগুলো দেখাশোনা করেন তিনি। তাই তিনি বিদ্যালয়ে আসার সময় পান না।

শিক্ষক চায়না রানী সাহা বলেন, নিয়মিত স্কুলে না আসার বিষয়ে কথা বলতে গেলে সুমন জানিয়েছে, আমারটা আমি দেখব, আপনারা কোনো কথা বলবেন না। আমরা তাই তাকে কোনো কিছু বলি না।

ভিটিপাড়া কাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাকিলা নাহার বলেন, সুমনের নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসার বিষয়টি সত্য। সহকর্মীরা সবাই আমাকে সতর্ক করে বলেছে যে, তাকে কিছু বলা যাবে না। সে যেভাবে বিদ্যালয়ে আসে তাকে সেভাবেই আসতে দিতে হবে। তারপরেও কিছু দিন আগে সুমনকে ডেকে এনে সতর্ক করে বলেছি, অনেক দিন তো হলো এবার চাকরিটা বাদ দাও। এখনকার পরিস্থিতি অন্য রকম। আগে যেমন যা যেভাবে করেছ, এখন সেভাবে তা করা যাবে না। কিন্তু এসব কথার কোন গুরুত্ব নেই তার কাছে।

সুমনের বিরুদ্ধে এর আগে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, সুমনের এই বিষয়টি সবাই জানে। আশপাশের শিক্ষকরা, শিক্ষক নেতারা কেউ কিছু তাকে বলেন না।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন মিয়া বলেন, আমি নিয়মিত স্কুলে আসি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা। আপনি আমার এলাকায় যান, তাদের কাছে শোনেন। আমার টিচার আছেন, তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন। টিচাররা যদি বলেন, আমি আসি না, তাহলে আমার বিরুদ্ধে যা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন আমি রাজি।

তার পরিবর্তে স্বপ্না নামের একজনের কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ওই নারীকে চাকরি দেওয়ার কেউ না। দুইটি সন্তান রেখে ওনার স্বামী মারা গেছে, কোনো কাজকর্ম নেই। সেজন্যে আমি তাকে বলেছি, ‘তুমি আমার স্কুলে আইসা টুকিটাকি ঝাড়ুটাড়ু দিলা, টুকটাক ফুটফরমায়েস করলা। বিনিময়ে আমি তোমাকে আর্থিক সহযোগিতা করব। মাস গেলে তাকে কিছু আর্থিক সয়াহতা করি, বাচ্চাদের স্কুলের খরচা দিই।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার রাফিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম নৈশ প্রহরীর কাজ অন্যকে দিয়ে করানোর সুযোগ নেই। আমরা বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর চিঠি দিয়েছি। সেটি পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ওই অফিস সহায়ক বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবু সাইদ বলেন, বিদ্যালয়ে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করে বদলি কাউকে দিয়ে ডিউটি করানোর অভিযোগটি গুরুতর। এভাবে তিনি গত ১১ বছর ধরে নিয়মিত বেতন ভাতাও উত্তোলন করছেন, শুনেছি। এতে কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে, তা না হলে দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চলতে পারে না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে বিষয়টি দ্রুততার সঙ্গে আমলে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য করুন

বৃদ্ধাকে মারধর করে টাকা ‘লুটে নিলেন’ জাসাস নেতা
নেত্রকোনার বারহাট্টায় শারিন আক্তার নামের এক বৃদ্ধাকে মারধর করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) এক নেতার বিরুদ্ধে।  সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার রাতে বাহাদুরপুর গ্রামে ওই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত অলি উল্লাহ রায়হান বারহাট্টা উপজেলা জাসাসের সদস্য সচিব। তিনি উপজেলা সদরের গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা। আর ভুক্তভোগী শারিন আক্তার বাহাদুরপুর গ্রামের প্রয়াত মো. হাবিবুর রহমানের স্ত্রী। স্থানীয় বাসিন্দা ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শারিন আক্তার সম্পর্কে অলি উল্লাহের মামি হন। সম্প্রতি শারিন আক্তারের সম্পতি নিয়ে অলি উল্লাহের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়। শনিবার দুপুরে অলি উল্লাহ তার সৎ মা হাসিনা মমতাজকে নিয়ে শারিনের বাড়িতে আসেন।  এ সময় শারিন ঘরের দরজা বন্ধ করতে চাইলে অলি উল্লাহ জোর করে ঘরে ঢোকেন। শারিন বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি ঘরের থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা শারিনকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। এ ঘটনায় শারিনের মেয়ে পপি আজাদ ওই দিন রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পপি বলেন, অলি উল্লাহ আমাদের ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র ভাঙচুরসহ আমার বৃদ্ধ মাকে বেধড়ক মারধর করে দেড় লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তার রাজনৈতিক প্রভাবে পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। এ ছাড়া কোনো পদক্ষেপও নিচ্ছে না পুলিশ। অলি উল্লাহ এখন আমাদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অলি উল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ঘরে ঢুকে হামলা বা ভাঙচুর কিংবা টাকা লুট করিনি। এটা মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। শারিন আক্তার সম্পর্কে আমার মামি হন। তার সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। পরে তিনি দরজা বন্ধ করে দিলে আমার মা রাগান্তিত হয়ে কাঁচের গ্লাস ভেঙে ফেলেন। এ ছাড়া আর কিছু হয়নি। জেলা জাসাসের আহ্বায়ক সাদমান পাপ্পু জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। এ ধরনের ঘটনা যদি ঘটে থাকে তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে অলি উল্লাহের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃদ্ধাকে মারধর করে টাকা ‘লুটে নিলেন’ জাসাস নেতা
জুলাই সনদের জন্য ৫ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে : নাহিদ 
জুলাই সনদ, বিচার ও সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই সনদের জন্য অপেক্ষা করা হবে। আশা করা যায়, সরকারসহ সব পক্ষ এর মধ্যেই জুলাই সনদ ঘোষণা করবে। সোমবার (৭ জুলাই) সকালে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে রাজশাহীতে অবস্থানকালে তিনি এ কথা বলেন।  জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের স্বীকৃতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে জুলাই সনদ প্রণয়ন এবং সংবিধানের অংশ হিসেবে ঘোষণার দাবি করে আসছে এবং তা এই মাসের মধ্যেই ঘোষণার দাবি করে তরুণ এই রাজনৈতিক দল। সরকারও এই সময়ের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ ঘোষণা করতে পারবে বলে আশা করছে। তবে গণ-অভুত্থান দিবস অর্থাৎ আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করবে এনসিপি। জুলাই সনদ, বিচার ও সংস্কার এবং জুলাই স্মরণে গত ১ জুলাই ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করে এনসিপি। সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী এই কর্মসূচির গত ৬ দিনে ১৪টি জেলায় পদযাত্রা শেষ হয়েছে। সোমবার নাটোর হয়ে সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় যাবেন এনসিপি নেতারা।
জুলাই সনদের জন্য ৫ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে : নাহিদ 
লরির চাকায় পিষ্ট পিকআপ চালক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে শুকলাল দাস (৪২) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  সোমবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের সামনে এই ঘটনা ঘটে।  নিহত শুকলাল দাস ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সোনারগাঁ গ্রামের জেলেপাড়া এলাকার তেজেন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি পেশায় পিকআপ চালক। ‎হাইওয়ে পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত শুকলাল দাস সকালবেলা তার পিকআপটি রেখে রাস্তার পাশে দাঁড়ান। হঠাৎ একটি বেপরোয়া গতিতে আসা লরি তাকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে পড়ে যান। পরে লরির নিচে চাপা পড়লে তার শরীরের ওপরের অংশ থেঁতলে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। ‎নিহতের বড় ভাইয়ের ছেলে রানা বলেন, আমার চাচ্চু উনার পিকআপটি রেখে মহাসড়কের পাশে দাঁড়ায়। এ সময় একটি বেপরোয়া লরি ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে যান। পরে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। তার তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ‎বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল মমিন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক লরিটি আটক করা হয়েছে।
লরির চাকায় পিষ্ট পিকআপ চালক
ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী খুন, আসামি গ্রেপ্তার
হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় চোরের ছুরিকাঘাতে জনি দাস নামের এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সন্দেহভাজন অভিযুক্ত সাজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  সোমবার (৭ জুলাই) সকালে হবিগঞ্জ সদরের কামড়াপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাজু মিয়া আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে শরের নাদিরাবাদ এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেছিলেন।  হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একেএম সাহাবুদ্দিন শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ভোরে শহরের চৌধুরী বাজারের দেয়ানত রাম সাহার বাড়ি এলাকার নরধন দাসের বাড়িতে চোর হানা দেয়। এ সময় তার ছেলে হবিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জনি দাস (১৭) চোরকে ঝাপটে ধরতে চাইলে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এ সময় তাকে বাঁচাতে তার বড় ভাই জয় দাস এগিয়ে আসলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক জনিকে মৃত ঘোষণা করেন।  তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর নিহতের বাবা নরধন দাস বাদী হয়ে শনিবার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি সাজুকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী খুন, আসামি গ্রেপ্তার
কমিটি দিতে আড়াই লাখ দাবি, নেতা বললেন ‘এটা শুধুই মজা’
কমিটি দিতে আড়াই লাখ দাবি, নেতা বললেন ‘এটা শুধুই মজা’
হেফাজত আমিরের সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
হেফাজত আমিরের সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
মেঘনায় মাছ নেই, কিস্তির চাপে জর্জরিত জেলেরা
মেঘনায় মাছ নেই, কিস্তির চাপে জর্জরিত জেলেরা
বিদেশি পিস্তলসহ সন্ত্রাসী রয়েল আটক
বিদেশি পিস্তলসহ সন্ত্রাসী রয়েল আটক