শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

ঘুষ দিলে মেলে ভূমিসেবা, না দিলে হয়রানি

আবুল হাসান, গাজীপুর
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৫, ০৩:৪৪ পিএম
নাগরী ইউনিয়ন ভূমি অফিস। ছবি : কালবেলা
নাগরী ইউনিয়ন ভূমি অফিস। ছবি : কালবেলা

জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও চাহিদামতো ঘুষ না দিলে কাগজপত্র গ্রহণই করা হয় না। ঘুষের টাকা দিয়েও মাসের পর মাস ভূমি অফিসে ঘুরতে হয় সেবা প্রার্থীদের। এছাড়া অনলাইনে সার্ভার সমস্যার অজুহাতে দেখিয়ে সেবা গ্রহণকারীদের হয়রানির রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এ ছাড়া চাহিদামতো টাকা না দিলে সরকারি খাসজমিও নিয়মমাফিক বন্দোবস্ত দেওয়া হয় না। মোট কথা টাকা ছাড়া কোনো কাজই হয় না গাজীপুরে বেশির ভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে।

ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক সরকারি অফিসে নীতি-নৈতিকতার কিছুটা পরিবর্তন হলেও জেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর অনিয়ম রয়ে গেছে আগের মতই। টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না এখানে। তবে স্থানীয় জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘুষ দুর্নীতি দমনে কাজ করছে প্রশাসন। শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন অনেক কর্মকর্তা।

সরেজমিনে জেলার শ্রীপুর, সদর উপজেলা, কালীগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুরে দেখা গেছে, নামজারি, জমা ভাগ, খাজনা আদায়, মিস মোকাদ্দমাসহ নানা কাজে ভিড় করেছেন সেবা প্রার্থী সাধারণ মানুষ। এসব মানুষের অনেকেই জানেন না সরকার নির্ধারিত ফি ও সিটিজেন চার্টারের খবর। ফলে ভূমি অফিসের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের যোগাসাজশে দালাল ও টাউটদের পাল্লায় পড়েন গ্রামের নিরীহ সাধারণ মানুষ। একেকটা খারিজ ও নাম জারিতে শ্রেণিভেদে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৩০-৪০ হাজার পর্যন্ত টাকা নেয়া হয়। এসব টাকার ভাগ পান ভূমি অফিসের বড় কর্তারাও। এছাড়া বিবদমান এক পক্ষের টাকা নিয়ে অপরপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উধাও করে দেয়া, সেবা প্রার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ে সেবা না দেওয়া, অযথা সময়ক্ষেপণ করাসহ নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, টাকা দিলে ছেঁড়া দলিলেও কাজ হয়। আর টাকা না দিলে কাগজপত্র নিয়ে আলমারিতে তুলে রাখা হয় মাসের পর মাস। এখানে ঘুষ নিয়ে কাজ করা একদম ওপেন সিক্রেট ব্যাপার। শুধু তাই নয়, চাহিদা মাফিক টাকার মধ্যে কম টাকা পরিশোধ করা হলেও ঘুরানো হয়, হয়রানি করা হয়।

বাসন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসেছেন একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. হান্নান সরকার। তার জমির খারিজ ও জমির পরিমাণ সংশোধনের জন্য (স্মারক নং ৪৩৩ তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪) আবেদনের পর কাগজপত্র এসিল্যান্ড অফিসে পাঠানোর কথা। সেখানে খোঁজ নেয়ার পর তারা জানান, তার নামে ভূমি অফিস থেকে কাগজ পাঠানো হয়নি। টাকা না দেয়ায় আজ অবধি সেই কাগজ পাঠায়নি ভূমি অফিসের লোকজন। কিন্তু ভূমি অফিসে গেলে বলে কাগজ পাঠানো হয়েছে। এইভাবে দুই অফিসে ঘুরে ঘুরে হয়রানি হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষক।

অভিযোগ রয়েছে শ্রীপুর উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের পেলাইদ গ্রামের কৃষক শহীদুল ইসলামের। এক বিঘা জমির নামজারি (খারিজ) করতে যান সিংহশ্রী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। এ জন্য উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা তাজ উদ্দিন তার কাছে ৮ হাজার টাকা দাবি করেন। শহীদুল ৪ হাজার টাকা দেয়ার পর টাকা নিয়ে আবেদন গ্রহণ করেন তিনি। এরপর দীর্ঘ দুই বছর পার হলেও কাগজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। যোগাযোগ করলে সার্ভার সমস্যাসহ নানা অজুহাত দেখানো হয়।

হয়রানির অভিযোগ এনে স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোহাম্মদ বলেন, আমি পর্চা উঠানোর জন্য গাজীপুর থেকে ৪০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এই ভূমি অফিসে এসেছি। এসে দেখি ভূমি কর্মকর্তা অফিসে নেই। এখন আমার পরিশ্রম, অর্থ দুটোয় গেল। এই অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না।

তিনি বলেন, উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে বারবার অনুরোধ করলেও তিনি অফিসের কক্ষে তালা লাগানো বলে জানিয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে বটগাছের নিচে বসে আছেন পানজোরা গ্রামের বৃদ্ধ রুহুল আমিন। তার সঙ্গে রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। তিনি জানান, তার জমি নামজারি (খারিজ) করতে ছয় মাস আগে কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করেছেন। এজন্য তিনি ৬ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।

ভুক্তভোগী রুহুল আমিন বলেন, শুধু সরকার নির্ধারিত ফি’তে কাজ করতে গেলে আমার কাজ হবে না বলে এখানকার লোকজন জানিয়েছে। আর সরকারি ফি সম্পর্কে আমি তেমন কিছু জানি না।

একই উপজেলার নিয়াজ আলী বলেন, আমি খারিজ করতে আসলে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। আমি তাদের ১০ হাজার টাকাই দিয়েছি। তারপরও চার মাস ধরে তারা আমাকে ঘুরাচ্ছে। আমরা আসলে বুঝিনা কত টাকা লাগবো। তাদের চাহিদা মত টাকা দিছি কিন্তু তারা কোন রশিদ দেন নাই।

অভিযোগ অস্বীকার করে নাগরী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সোলায়মান সরকার বলেন, কাগজপত্র সঠিক থাকলে তার অফিসে কোনো টাকা পয়সা লাগে না। তার অফিসে কোনো দালাল নেই।

এদিকে একই চিত্র দেখা গেছে সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। সেখানে সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কেটে পড়েন সেখানে থাকা দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীরা।

সেখানে কথা হয় নয়াপাড়ার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, জমি খারিজ করতে তিন মাস আগে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত খারিজ বুঝিয়ে দেয় নাই। আজ আসতে বলেছে, দেখি কী হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক বাসিন্দা বলেন, এই অফিসে টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না। মানুষ নিরুপায়, তাদের টাকা দিতেই হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ কায়সার খসরু বলেন, ভূমি সেবাকে জনগণের কাছে সহজতর ও ভোগান্তি বিহীন করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সংস্কার বোর্ড ও জেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজড করা। এটি করতে পারলে ঘরে বসে মানুষ হয়রানি ছাড়া কাজ করতে পারবেন। কিন্তু বিদ্যমান ভূমি ব্যাবস্থাপনার জন্যে বিশেষ করে গাজীপুরের অবস্থা জটিল। এজন্য মানুষ এখনো সেবা প্রাপ্তির জন্য তৃতীয় পক্ষের দ্বারস্থ হন এবং হয়রানির শিকার হন।

তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশে ভূমি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এটি করা গেলে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নির্দিষ্ট কাজ করা যাবে। এতে ইতিবাচক পরিবর্তন হবে বলে আশা করি। আর আমরা যখন যে অভিযোগ পাচ্ছি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখানে গত ৬ মাসে অন্তত চারজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মন্তব্য করুন

বৃদ্ধাকে মারধর করে টাকা ‘লুটে নিলেন’ জাসাস নেতা
নেত্রকোনার বারহাট্টায় শারিন আক্তার নামের এক বৃদ্ধাকে মারধর করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) এক নেতার বিরুদ্ধে।  সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার রাতে বাহাদুরপুর গ্রামে ওই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত অলি উল্লাহ রায়হান বারহাট্টা উপজেলা জাসাসের সদস্য সচিব। তিনি উপজেলা সদরের গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা। আর ভুক্তভোগী শারিন আক্তার বাহাদুরপুর গ্রামের প্রয়াত মো. হাবিবুর রহমানের স্ত্রী। স্থানীয় বাসিন্দা ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শারিন আক্তার সম্পর্কে অলি উল্লাহের মামি হন। সম্প্রতি শারিন আক্তারের সম্পতি নিয়ে অলি উল্লাহের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়। শনিবার দুপুরে অলি উল্লাহ তার সৎ মা হাসিনা মমতাজকে নিয়ে শারিনের বাড়িতে আসেন।  এ সময় শারিন ঘরের দরজা বন্ধ করতে চাইলে অলি উল্লাহ জোর করে ঘরে ঢোকেন। শারিন বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি ঘরের থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা শারিনকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। এ ঘটনায় শারিনের মেয়ে পপি আজাদ ওই দিন রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পপি বলেন, অলি উল্লাহ আমাদের ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র ভাঙচুরসহ আমার বৃদ্ধ মাকে বেধড়ক মারধর করে দেড় লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তার রাজনৈতিক প্রভাবে পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। এ ছাড়া কোনো পদক্ষেপও নিচ্ছে না পুলিশ। অলি উল্লাহ এখন আমাদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অলি উল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ঘরে ঢুকে হামলা বা ভাঙচুর কিংবা টাকা লুট করিনি। এটা মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। শারিন আক্তার সম্পর্কে আমার মামি হন। তার সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। পরে তিনি দরজা বন্ধ করে দিলে আমার মা রাগান্তিত হয়ে কাঁচের গ্লাস ভেঙে ফেলেন। এ ছাড়া আর কিছু হয়নি। জেলা জাসাসের আহ্বায়ক সাদমান পাপ্পু জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। এ ধরনের ঘটনা যদি ঘটে থাকে তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে অলি উল্লাহের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃদ্ধাকে মারধর করে টাকা ‘লুটে নিলেন’ জাসাস নেতা
জুলাই সনদের জন্য ৫ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে : নাহিদ 
জুলাই সনদ, বিচার ও সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই সনদের জন্য অপেক্ষা করা হবে। আশা করা যায়, সরকারসহ সব পক্ষ এর মধ্যেই জুলাই সনদ ঘোষণা করবে। সোমবার (৭ জুলাই) সকালে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে রাজশাহীতে অবস্থানকালে তিনি এ কথা বলেন।  জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের স্বীকৃতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে জুলাই সনদ প্রণয়ন এবং সংবিধানের অংশ হিসেবে ঘোষণার দাবি করে আসছে এবং তা এই মাসের মধ্যেই ঘোষণার দাবি করে তরুণ এই রাজনৈতিক দল। সরকারও এই সময়ের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ ঘোষণা করতে পারবে বলে আশা করছে। তবে গণ-অভুত্থান দিবস অর্থাৎ আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করবে এনসিপি। জুলাই সনদ, বিচার ও সংস্কার এবং জুলাই স্মরণে গত ১ জুলাই ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করে এনসিপি। সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী এই কর্মসূচির গত ৬ দিনে ১৪টি জেলায় পদযাত্রা শেষ হয়েছে। সোমবার নাটোর হয়ে সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় যাবেন এনসিপি নেতারা।
জুলাই সনদের জন্য ৫ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে : নাহিদ 
লরির চাকায় পিষ্ট পিকআপ চালক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে শুকলাল দাস (৪২) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  সোমবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মা ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের সামনে এই ঘটনা ঘটে।  নিহত শুকলাল দাস ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সোনারগাঁ গ্রামের জেলেপাড়া এলাকার তেজেন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি পেশায় পিকআপ চালক। ‎হাইওয়ে পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত শুকলাল দাস সকালবেলা তার পিকআপটি রেখে রাস্তার পাশে দাঁড়ান। হঠাৎ একটি বেপরোয়া গতিতে আসা লরি তাকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে পড়ে যান। পরে লরির নিচে চাপা পড়লে তার শরীরের ওপরের অংশ থেঁতলে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। ‎নিহতের বড় ভাইয়ের ছেলে রানা বলেন, আমার চাচ্চু উনার পিকআপটি রেখে মহাসড়কের পাশে দাঁড়ায়। এ সময় একটি বেপরোয়া লরি ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে যান। পরে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। তার তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ‎বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল মমিন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক লরিটি আটক করা হয়েছে।
লরির চাকায় পিষ্ট পিকআপ চালক
ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী খুন, আসামি গ্রেপ্তার
হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় চোরের ছুরিকাঘাতে জনি দাস নামের এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সন্দেহভাজন অভিযুক্ত সাজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  সোমবার (৭ জুলাই) সকালে হবিগঞ্জ সদরের কামড়াপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাজু মিয়া আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে শরের নাদিরাবাদ এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেছিলেন।  হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একেএম সাহাবুদ্দিন শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ভোরে শহরের চৌধুরী বাজারের দেয়ানত রাম সাহার বাড়ি এলাকার নরধন দাসের বাড়িতে চোর হানা দেয়। এ সময় তার ছেলে হবিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জনি দাস (১৭) চোরকে ঝাপটে ধরতে চাইলে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এ সময় তাকে বাঁচাতে তার বড় ভাই জয় দাস এগিয়ে আসলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক জনিকে মৃত ঘোষণা করেন।  তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর নিহতের বাবা নরধন দাস বাদী হয়ে শনিবার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি সাজুকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী খুন, আসামি গ্রেপ্তার
কমিটি দিতে আড়াই লাখ দাবি, নেতা বললেন ‘এটা শুধুই মজা’
কমিটি দিতে আড়াই লাখ দাবি, নেতা বললেন ‘এটা শুধুই মজা’
হেফাজত আমিরের সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
হেফাজত আমিরের সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
মেঘনায় মাছ নেই, কিস্তির চাপে জর্জরিত জেলেরা
মেঘনায় মাছ নেই, কিস্তির চাপে জর্জরিত জেলেরা
বিদেশি পিস্তলসহ সন্ত্রাসী রয়েল আটক
বিদেশি পিস্তলসহ সন্ত্রাসী রয়েল আটক