শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

কাঁচা পেঁপের রসে যত উপকার

কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৩:০৬ পিএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৪:৩৮ পিএম
কাঁচা পেঁপের রসের উপকার
কাঁচা পেঁপের রস। ছবি : সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি, পাকা পেঁপে খেতে যেমন মিষ্টি আর খাবার হজমের দারুণ সাহায্য করে। কিন্তু কাঁচা পেঁপে? বেশিরভাগ মানুষই একে খাবার তালিকায় রাখেন না। আর রাখলেও তা সবজি বা ভাজি হিসেবেই খাওয়া হয়। কাঁচা পেঁপে স্বাদে একটু তেতো, একটু কষা হলেও হতে পারে। তবে এমনিতে খেতে খারাপ না। কচকচে সবুজাভ এ সবজির রস চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এক ধরনের প্রাকৃতিক ওষুধ, যার উপকারিতা জানলে আপনি অবাক হবেন।

সাধারণভাবে ট্রপিক্যাল ফল হিসেবে পরিচিত পেঁপে শুধু নয়, তার কাঁচা রূপটিও যে কতটা পুষ্টিকর আর কার্যকরী হতে পারে, তা অনেকেই জানেন না। আজ আমরা জানব, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কাঁচা পেঁপের রস রাখলে আপনার শরীরের কীভাবে উপকার পাবে।

হজমে দুর্দান্ত সহায়ক

কাঁচা পেঁপেতে আছে এক শক্তিশালী এনজাইম। পাপাইন নামের এ এনজাইম শরীরে খাবারের প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে। এই এনজাইমের কারণে ভারী খাবারের পর পেট ভার হওয়া, গ্যাস কিংবা অম্বলের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। নিয়মিত এই রস পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমজনিত সমস্যাও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।

শরীর ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখে

কাঁচা পেঁপের রসে প্রায় ৮৮ শতাংশ পানি থাকে। ফলে এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। গরমের দিনে এটি প্রাকৃতিক কুল্যান্টের মতো কাজ করে। এ ছাড়া হালকা ডায়ুরেটিক হিসেবেও কাজ করে, অর্থাৎ শরীরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে সহায়ক

ওজন কমাতে চান? প্রতিদিন এক গ্লাস কাঁচা পেঁপের রস হতে পারে আপনার নতুন বন্ধু। এতে থাকে পর্যাপ্ত ফাইবার ও এনজাইম, যা মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। কম ক্যালোরির এই রস সকালে খালি পেটে খেলে পেট পরিষ্কার থাকে, শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের হয়ে যায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে।

ত্বক করে উজ্জ্বল ও পরিষ্কার

ত্বকে ব্রন, দাগ বা রঙের পার্থক্য দেখা দিলে কাঁচা পেঁপের রস হতে পারে প্রাকৃতিক সমাধান। এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ ও সি, যা ত্বকের মরা কোষ সরিয়ে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। এই রস শরীরের অভ্যন্তর থেকে টক্সিন দূর করে, ফলে ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল, মসৃণ ও প্রাণবন্ত।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

শরীরকে অসুখের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত রাখতে কাঁচা পেঁপের রস বিশেষ ভূমিকা রাখে। এতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিনস ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। এ উপাদানগুলো আমাদের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় এই রস নিয়মিত খেলে ঠান্ডা, জ্বর বা সংক্রমণের আশঙ্কা কম থাকে।

চোখের যত্নে কার্যকর

সারাদিন কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করলে চোখের ওপর চাপ পড়ে। কাঁচা পেঁপেতে থাকা ক্যারোটিনয়েড। ভিটামিন এ তৈরিতে যা সাহায্য করে। এটি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গবেষণা বলছে, গাজর বা টমেটোর তুলনায় কাঁচা পেঁপেতে ক্যারোটিনয়েডের পরিমাণ বেশি, ফলে এটি চোখের ক্লান্তি কমায় এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

প্রতিদিনের ডায়েটে এ ছোট সংযোজন দিতে পারে বড় উপকার

স্বাদে একটু অন্যরকম লাগলেও, পুষ্টিগুণে ভরপুর কাঁচা পেঁপের রস শরীরের ভেতরের যত্ন নেয়। এটি হজম শক্তি বাড়ায়, ত্বক ও চোখের যত্ন নেয় এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কাঁচা পেঁপের রস হতে পারে আপনার সুস্থ জীবনের এক নতুন অভ্যাস। চলুন জেনে নেই কীভাবে বানাবেন এই পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার।

উপকরণ

# কাঁচা পেঁপে : ১ কাপ (ছেলা ও কিউব করে কাটা)

# পানি : ১ থেকে ১.৫ কাপ (রস পাতলা বা ঘন করার জন্য, আপনার পছন্দ অনুযায়ী)

# লেবুর রস : ১/২ চা চামচ (স্বাদ ও ভিটামিন সি বাড়ানোর জন্য)

# মধু বা গুঁড় : ১ চা চামচ (না দিলেও চলে, এটি অপশনাল)

# আদা : ছোট একটি টুকরো (হজমে সহায়ক ও সুগন্ধ যোগ করতে, এটিও অপশনাল)

# বিট লবণ বা সাধারণ লবণ : এক চিমটি (অপশনাল)

তৈরির পদ্ধতি

কাঁচা পেঁপের রস তৈরি করতে প্রথমেই একটি কাঁচা পেঁপে ভালোভাবে ধুয়ে এর সবুজ খোসা ছড়িয়ে ফেলুন। এরপর মাঝখান থেকে কেটে ভেতরের বীজগুলো ফেলে দিন। এবার ছোট ছোট কিউব করে কেটে নিন, যাতে পরে ব্লেন্ড করা সহজ হয়।

কাটা পেঁপে, প্রয়োজনমতো পানি, এক-দুই চা চামচ লেবুর রস, একটু মধু (স্বাদ কমানোর জন্য) এবং চাইলে এক টুকরো আদা একসঙ্গে ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন যতক্ষণ না রসটি মসৃণ হয়। আপনি যদি একদম পাতলা ও ঝকঝকে রস পছন্দ করেন, তাহলে এটি একটি চালুনি বা পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিতে পারেন। তবে ফাইবারসহ খেলে তা হজমের জন্য আরও উপকারী।

সবশেষে রসটি একটি গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন। চাইলে কয়েকটি বরফের টুকরো দিয়ে দিন, আর ওপর থেকে এক চিমটি বিট লবণ বা আরও একটু লেবুর রস দিলে স্বাদ হবে আরও তাজা ও সুগন্ধময়। তবে খেয়াল রাখবেন, এটি প্রস্তুত করার পর যত দ্রুত সম্ভব খেয়ে ফেলা জরুরি।

মনে রাখবেন, এ লেখাটি সাধারণ তথ্যভিত্তিক। কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এবং অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো মনে রাখবেন-

# প্রথমবার খেলে অল্প পরিমাণে শুরু করুন, কারণ কাঁচা পেঁপের এনজাইম শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে যদি অভ্যস্ত না থাকেন।

# অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য কাঁচা পেঁপে নিষেধ, কারণ এটি জরায়ুতে সংকোচন ঘটাতে পারে।

# সকালে খালি পেটে খাওয়া সবচেয়ে উপকারী, বিশেষ করে যদি শরীরকে ডিটক্স করতে চান।

# কাঁচা পেঁপের রস তাজা খাওয়াই ভালো, কারণ এনজাইম সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায়।

মন্তব্য করুন

হার্টের যত্নে যেসব খাবার খাবেন
বাংলাদেশে হৃদরোগ এখন সাধারণ একটি সমস্যা। ব্যস্ত জীবন, ভেজাল খাবার আর অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। কিন্তু আজ আপনাদের জন্য একটি ভালো খবর আছে।  বিজ্ঞান বলছে আমরা কী খাচ্ছি, সেটার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে আমাদের হার্টের সুস্থতা। তাই স্বাস্থ্যকর, সঠিক এবং ভালো খাবার খেয়ে কীভাবে নিজের হার্টের যত্ন নেবেন, চলুন জেনে নেই।  কিছু খাবার নিয়মিত খেলে আপনার হৃদয় ভালো থাকবে বলেই জানাচ্ছে বর্তমান পুষ্টিবিদরা। বাংলাদেশে সহজলভ্য এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নিন, যা খেলে আপনি নিজের হার্টের যত্ন নিতে পারবেন সহজেই। চলুন পরিচিত হই সেই খাবারগুলোর সঙ্গে, যেগুলো আমাদের জন্য সহজলভ্য তবে হার্টের যত্নে বিশেষ উপকারী-  ১. মাছ (রুই, ইলিশ, পাবদা ইত্যাদি) কেন ভালো : রুই, ইলিশ, পাবদা- এসব মাছে ওমেগা-৩ চর্বি থাকে, যা রক্তচাপ কমাতে আর হৃদয়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পরামর্শ : ভাজা না খেয়ে মাছ সেদ্ধ, ঝোল বা ভাঁপে রান্না করে খাওয়াই ভালো। ২. ডাল (মসুর, মুগ, ছোলা) কেন ভালো : ডালে আছে প্রচুর ফাইবার আর প্রোটিন। এটা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমে এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।   পরামর্শ : মাংসের বদলে সপ্তাহে কয়েকদিন ডাল দিয়ে ভাত খান। ৩. শাক-সবজি (পুঁই, লাল শাক, কলমি শাক) কেন ভালো : পুঁই শাক, লাল শাক আর কলমি শাকে আছে ভিটামিন, ফাইবার আর পটাশিয়াম। এগুলো হৃদয়কে শক্ত রাখে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।   পরামর্শ : কম তেলে আর কম লবণে শাক রান্না করুন, যেন পুষ্টিগুণ নষ্ট না হয়। ৪. ফল (পেয়ারা, পেঁপে, কলা, আমলা) কেন ভালো : পেয়ারা, পেঁপে, কলা আর আমলাতে আছে প্রচুর ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো হৃদয় ভালো রাখতে খুব উপকারী। পরামর্শ : চিপস বা মিষ্টির বদলে ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন। ৫. সরিষার তেল কেন ভালো : সরিষার তেলে ভালো চর্বি থাকে যা হৃদয়ের জন্য উপকারী। তবে পরিমাণে খাওয়া জরুরি। পরামর্শ : অল্প তেলে রান্না করুন এবং বেশি গরম না করে তেল ব্যবহার করুন। ৬. লাল চাল কেন ভালো : লাল চাল বা আধা সিদ্ধ চালে বেশি ফাইবার থাকে। এটি রক্তে চিনি ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। পরামর্শ : ধীরে ধীরে সাদা চালের সঙ্গে লাল চাল মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন। ৭. বাদাম ও বীজ (চিনাবাদাম, তিল, তিসি বীজ) কেন ভালো : চিনাবাদাম, তিল আর তিসি বীজে আছে ভালো চর্বি, ম্যাগনেসিয়াম আর ফাইবার। নিয়মিত খেলে হৃদয় সুস্থ থাকে। পরামর্শ : লবণ ছাড়া অল্প বাদাম খেতে পারেন। তিসি বীজ গুঁড়ো করে ভাত বা তরকারিতে মেশাতে পারেন। ৮. রসুন ও হলুদ কেন ভালো : রসুন রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। হলুদে আছে প্রদাহ কমানোর উপাদান। দুইটাই আমাদের ঘরোয়া রান্নায় ব্যবহার হয়। পরামর্শ : প্রতিদিনের রান্নায় রসুন ও হলুদ ব্যবহার করুন, তবে কম তেলে রান্না করুন। নিজের হার্ট ভালো রাখার জন্য দামি খাবার দরকার নেই। আমাদের ঘরের পাশের বাজারেই পাওয়া যায় এমন অনেক খাবার আছে যা খেলে আপনার হার্ট সুস্থ থাকবে। একটু বুঝে খেলে, কম তেল, কম লবণ আর কম ভাজা খাবার খেলেই পাবেন অনেক উপকার।
হার্টের যত্নে যেসব খাবার খাবেন
খানাপিনা / বাহারি খিচুড়ি
আষাঢ় ও শ্রাবণ—এ দুই মাস বর্ষাকাল। প্রায় দিনই বৃষ্টি লেগে থাকে। রিমঝিম বৃষ্টি উদযাপনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে খিচুড়ির নাম। ভুনা থেকে শুরু করে ল্যাটকা, আচারিসহ বিভিন্ন পদের খিচুড়ির স্বাদ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কমবেশি সবাই। আর যদি হয় গরুর মাংস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পদের খিচুড়ি, তাহলে তো জমে ক্ষীর! আপনাদের জন্য রইল গরুর মাংস দিয়ে তৈরি কয়েকটি খিচুড়ির রেসিপি— হরিয়ালি বিফ খিচুড়ি উপকরণ খিচুড়ির জন্য: কালিজিরা/চিনিগুঁড়া/ বাসমতী চাল ৪ কাপ, মসুর/মুগডাল ২ কাপ, পেঁয়াজ আধা কাপ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, জিরা বাটা আধা চা চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, কাঁচামরিচ ৭-৮টি, এলাচ ৪টি, লবঙ্গ ৫-৬টি, তেজপাতা ২টি, দারুচিনি ২ টুকরো, লবণ স্বাদমতো, তেল আধা কাপ। গরুর মাংসের জন্য: গরুর মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, আদা বাটা ২ চা চামচ, রসুন বাটা দেড় চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া আধা চা চামচ, লাল মরিচ গুঁড়া ১ চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল ১/৪ কাপ। হরিয়ালি পেস্টের জন্য: টক দই ৩ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি ১/৪ কাপ, পুদিনা পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ ২-৩টি। অন্যান্য উপকরণ: পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ ও টমেটো কুচি এক কাপ। প্রস্তুত প্রণালি: চাল-ডাল ভালোভাবে ধুয়ে একপাশে রেখে দিন। শুরুতেই টক দই, ধনে ও পুদিনা পাতা দিয়ে তৈরি করে নিন হরিয়ালি পেস্ট। এবার গরুর মাংস ধুয়ে পানি ঝরতে রেখে দিন। গরুর মাংস: প্রেশার কুকার বা প্যানে তেল দিয়ে ভালোভাবে গরম করে তাতে পেঁয়াজ দিয়ে সোনালি রং হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। এবার এতে এক এক করে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। মসলা থেকে তেল ছেড়ে না আসা পর্যন্ত কষিয়ে নিন। কষানো মসলা মাংস দিয়ে কিছু সময় আরও কষিয়ে নিন। এবার পানি দিয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত রান্না করুন, যতক্ষণ না মাংস নরম হয়ে যায়। মাংস রান্না হয়ে গেলে ঝোলের পানি শুকিয়ে হরিয়ালি পেস্ট ও গরম মসলা দিয়ে আরও কিছু সময় রান্না করুন। খিচুড়ি: একটি পাত্রে তেল গরম করে তাতে গোটা গরম মসলা ও পেঁয়াজ দিয়ে সুগন্ধ ছড়ানো পর্যন্ত ভাজতে থাকুন। এবার তাতে চাল-ডালের মিশ্রণ দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ভেজে নিন। ভাজা শেষে আদা-রসুন-জিরা বাটা দিয়ে দিন। আরও কিছুক্ষণ ভেজে নিন। এবার ১০ কাপ গরম পানি, লবণ দিয়ে মিডিয়াম আঁচে রান্না করুন। মাঝেমধ্যে নাড়া দিতে হবে। পানি চাল-ডালের বরাবর হয়ে গেলে তাতে রান্না করা গরুর মাংস ও টমেটো কুচি এবং পেঁয়াজ বেরেস্তা ছড়িয়ে দিন। ধীরে ধীরে গরুর মাংস ও অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে দেবেন। এবার ২০ মিনিটের জন্য একদম অল্প আঁচে ২০ মিনিট রান্না করুন। এ সময় কোনো নাড়াচাড়া করবেন না। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল হরিয়ালি বিফ খিচুড়ি। এবার একটি পাত্রে বেড়ে নিয়ে তার ওপর পেঁয়াজ বেরেস্তা ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি উপকরণ: গরুর মাংস এক কেজি, পোলাওয়ের চাল এক কেজি, মসুর ডাল ২/৩ কাপ, মুগ ডাল এক কাপ, লবণ এক টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া এক টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া দেড় টেবিল চামচ, ধনিয়া গুঁড়া এক চা চামচ, জিরা গুঁড়া এক চা চামচ, রসুন বাটা দুই চা চামচ, আদা বাটা দুই চা চামচ, দারুচিনি দুই টুকরা, সবুজ এলাচ পাঁচটি, লবঙ্গ পাঁচটি, তেজপাতা দুটি, পেঁয়াজ কুচি দেড় কাপ, তেল এক কাপ, ঘি দুই টেবিল চামচ, কেওড়া জল তিন টেবিল চামচ। প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে একটি পাত্রে মাংস ধুয়ে লবণ, হলুদ, ধনিয়া, জিরা ও মরিচ গুঁড়া, রসুন ও আদা বাটা, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, তেজপাতা, পেঁয়াজ কুচি ও তেল দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। এবার একটি চুলায় প্যান বসিয়ে তাতে মাখানো মাংস মাঝারি আঁচে ১০-১২ মিনিট ঢেকে রান্না করতে হবে। এরপর ঢাকনা তুলে কষিয়ে নিন মাংস। পানি শুকিয়ে গেলে এক কাপ পানি দিয়ে আরও আধা ঘণ্টার জন্য ঢেকে দিন প্যান। তাতে মুগ ও মসুর ডাল একসঙ্গে ঢেলে দিয়ে প্যানে নেড়েচেড়ে নিন। পোলাওয়ের চালের সঙ্গে ভাজা ডাল মিশিয়ে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। মাংস প্রায় সিদ্ধ হয়ে গেলে ঘি ও ধুয়ে রাখা চাল ডাল দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে কিছুক্ষণ নাড়তে হবে। এরপর আট কাপ পানি দিয়ে দিন। ভালো করে নেড়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে উচ্চতাপে ৮ থেকে ১০ মিনিটের মতো রান্না করুন। এবার ঢাকনা তুলে একটু নেড়ে কেওড়া জল দিয়ে ঢেকে একদম অল্প আঁচে ২০-২৫ মিনিট রান্না করতে হবে। সবশেষ ঢাকনা তুলে খিচুড়ি হালকা নেড়ে আরও ৫ মিনিট দমে রেখে পরিবেশন করুন গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি। আচারি বিফ খিচুড়ি উপকরণ: গরুর মাংস ২ কেজি, পোলাওয়ের চাল ৪ কাপ, মসুরের ডাল ২ কাপ, পেঁয়াজ ১ কাপ, তেল ১/২ কাপ, আদা বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ধনিয়া গুঁড়া ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, যে কোনো আচার ১/২ কাপ, রসুনের কোয়া খোসাসহ ১০/১২টি, এলাচ ৬টি, দারুচিনি ২ টুকরো, তেজপাতা ২টি, কাঁচামরিচ ৭/৮টি, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১/২ কাপ ও পানি ৮ কাপ। প্রস্তুতি প্রণালি: প্রথমে মাংসে পেঁয়াজ, তেল, আদা, রসুন, জিরা, ধনিয়া, হলুদ, মরিচ, গরম মসলা সব দিয়ে হাতে মেখে প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। ১০ মিনিট মাঝারি আঁচে রান্না করুন। তারপর ৩০ মিনিট কম আঁচে রান্না করুন। মাংস ৮০ শতাংশ সিদ্ধ হলে আচার দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিয়ে আরও ১০ মিনিট রান্না করুন। ঝোল মাখা মাখা হলে নামিয়ে একটি মোটা ছাঁকনি দিয়ে ঝোল থেকে ছেঁকে ছেঁকে মাংস একটা বাটিতে তুলে রাখুন। মাংসের ঝোলসহ হাঁড়ি চুলায় দিন আবার। এবার ধুয়ে পানি ঝরানো চাল, ডাল ঝোলে দিন। নেড়েচেড়ে ভাজুন এক মিনিট (এই চাল বেশি ভাজার প্রয়োজন নেই)। তারপর ৭ কাপ গরম পানি দিয়ে হাই ফ্লেমে পানি ফুটে ওঠা পর্যন্ত রান্না করুন। পানি ফুটে উঠলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে কম আঁচে রান্না করুন কিছুক্ষণ। যখন দেখবেন চালে পানি মাখা মাখা হয়ে গেছে আর চাল প্রায় সিদ্ধ হয়ে এসেছে, এবার খিচুড়িতে মাংস যোগ করে দিন। হালকা হাতে মাংস ভালো করে মিশিয়ে ওপরে কাঁচামরিচ আর রসুনের কোয়া দিয়ে একটা তাওয়ায় হাঁড়ি রেখে ১০ মিনিট দমে রাখুন। এরপর খিচুড়ির ওপর বেরেস্তা ছিটিয়ে চুলা থেকে নামান। রেস্টে রাখুন ৫/১০ মিনিট। খোসাসহ রসুনের ভেতরটা সিদ্ধ ও নরম হয়ে যাবে। খিচুড়ি খাওয়ার সময় এ রসুন আলতো চাপ দিলে গলে ক্রিমি একটা টেক্সচার বের হয়, যা খেতে খুবই সুস্বাদু। গরুর মাংসের ল্যাটকা খিচুড়ি উপকরণ: গরুর মাংস ১ কেজি (ছোট টুকরো করা), পোলাওয়ের চাল ১ কেজি, মুগ ডাল ২৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, জিরা বাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১-২ চা চামচ (স্বাদমতো), গরম মসলার গুঁড়া ১ চা চামচ, তেজপাতা ২টি, এলাচ ৪-৫টি, দারুচিনি ২ টুকরো, লবঙ্গ ৪-৫টি, তেল পরিমাণমতো, পেঁয়াজ বেরেস্তা সাজানোর জন্য, কাঁচামরিচ কয়েকটি (স্বাদমতো), লবণ স্বাদমতো, পানি পরিমাণমতো। প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে গরুর মাংস ধুয়ে নিন এবং একটি পাত্রে নিয়ে তাতে আদা, রসুন ও জিরা বাটা; হলুদ, মরিচ ও গরম মসশলার গুঁড়া, লবণ এবং সামান্য তেল দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে মেরিনেট করুন (কমপক্ষে ৩০ মিনিটের জন্য)। অন্য একটি পাত্রে মুগডাল হালকা ভেজে নিন, তবে খেয়াল রাখবেন যেন ডাল বেশি ভাজা না হয়ে যায়। চাল ও ডাল ধুয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। একটি বড় পাত্রে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি হালকা বাদামি করে ভেজে নিন। পেঁয়াজ ভাজা হয়ে গেলে মেরিনেট করা মাংস দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। মাংস কষানো হয়ে গেলে চাল ও ডাল দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নিন। এবার পরিমাণমতো গরম পানি, তেজপাতা, এলাচ, দারুচিনি ও লবঙ্গ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে দিন। লবণ চেখে প্রয়োজন অনুযায়ী মেশান। পানি ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন এবং মাংস ও চাল ভালোভাবে সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। মাঝেমধ্যে নেড়ে দিন যাতে তলায় না লেগে যায়। যখন চাল ও মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে যাবে এবং খিচুড়ি ঘন হয়ে আসবে, তখন ওপরে পেঁয়াজ বেরেস্তা ও কাঁচামরিচ দিয়ে কিছুক্ষণ দমে রাখুন। গরম গরম পরিবেশন করুন গরুর মাংসের ল্যাটকা খিচুড়ি।
বাহারি খিচুড়ি